কোরায়েশ বংশের বিশেষ আলোচিত দুই ভাই হাসেম এবং মোত্তালেব এই দুই ভাই একই মতের ও ধারার ব্যক্তি ছিল। হাসেম ছিল মক্কা ঘরের মতোয়াল্লি তিনি কোরায়েশ বংশের বহু উন্নতি সাধন করেছেন, আরবদের ব্যবসাহিক পন্য বিনা শুল্কে সিরিয়ায় প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিলেন। এই হাসেম একদিন ব্যবসার জন্য সিরিয়ার উদ্দেশ্যে বের হলেন পথিমধ্যে মদিনা বা ইয়াসরিফে গিয়ে তিনি যাত্রা বিরোতি করলেন সেখানে বনু নাজ্জারের এক মহিলাকে বিয়ে করলেন যার নাম ছিল সালমা বিনতে আমর সেখানে বেশ কিছুদিন অবস্থান করেন এবং তার স্ত্রী গর্ভবতী হয়, সেই অবস্থায় তাকে রেখে হাসেম সিরিয়ায় চলে যান এবং হাসেম সিরিয়ায় মৃত্যু বরণ করেন। এই মদিনায় হাসেমের স্ত্রী সালমা বিনতে আমর, ছেলে সন্তানের মা হন। এবং তার নাম রাখেন সাইবা ছেলেটির মাথার চুল ছিল সাদা এবং চেহারা অত্যন্ত সুন্দর ছিল। এই ছেলেটি যখন ১০/১১ বছর বয়স হলো তখন হাসেমের ভাই মোত্তালেব জানতে পারলেন যে. তার ভাই সিরিয়ায় যাওয়ার পথে মদিনায় বিয়ে করেছিলেন এবং একটি ছেলে সন্তানও আছে। এর পরে মোত্তালেব সিন্ধান্ত নিলেন যে মদিনা যাবেন এবং রওনা করলেন এবং সেখানে গিয়ে সালমা বিনতে আমরের সঙ্গে দেখা করলেন এবং তার কাছে প্রথমে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন, যে আমি জানতাম না আমার ভাই এখানে বিয়ে করেছন, এই জন্য আমি দঃখ প্রকাশ করছি। তিনি বললেন হাসেম তো কাবা ঘরের মোতায়াল্লি ছিল, সে অনেক ধন সম্পদ রেখে গেছেন যাদি ছেলেটিকে আমার সঙ্গে দিয়ে দেন তবে সে অনেক ধন সম্পদ পাবে এবং অনেক ভাল থাকবে, প্রথমে সালমা বিনতে আমর সাইবাকে দিতে রাজি না হলেও পরে ভেবে চিন্তে রাজি হলেন এবং মোত্তালেবের সঙ্গে ছেলে সাইবাকে দিয়ে দিলেন। মোত্তালেব মক্কায় ফিরে আসলেন, মক্কায় সকলে দেখলো মোত্তালেবের সঙ্গে অপুর্ব সুন্দর একটি ছেলে, তখন সকলে বলতে লাগলো আব্দুল মোত্তালেব, এই নামেই পরিচিত হলেন, এই হচ্ছে মহানবি (সা) এর দাদা। বড় হওয়ার পরে আব্দুল মোত্তালেব জ্ঞান গরিমায় পারদর্শী হন এবং কাবা ঘরের মোতাওাল্লি হন। আব্দুল মোত্তালেবকে আল্লাহ তায়ালা স্বপ্ন যোগে বন্ধ হয়ে যাওয়া জম জম কুপ পরিস্কার করার নির্দেশ করেন। আল্লাহ স্বপ্ন যোগে তাকে জায়গাটি দেখিয়ে দেন। এই জম জম কুপ আব্দুল মোত্তালেব একাই পরিস্কার করেন এবং সেখানে কিছু ধন সম্পদ পান যেমন- বড় তলোয়ার , কিছু স্বর্ণের জিনিস এগুলো তিনি তিনি কাবা ঘরে রাখেন। এই আব্দুল মোত্তালেবের ১০টি ছেলে সন্তান হয়, যার সর্ব কনিষ্ট ছেলে সন্তান আমাদের মহানবি (সা) এর বাবা যার নাম হলো আব্দুল্লাহ। আব্দুল্লাহ যখন ২৫ বছর তখন তার সঙ্গে ওহাব ইবনে আবদে মান্নাফ এর কন্না আমেনার সঙ্গে আব্দুল্লাহর বিয়ে হলো। কিছুকাল পর আমেনার পেটে যখন মহানবি (সা) আসলেন, তখন আব্দুল্লাহ ব্যবসার কাজে সিরিয়ায় গেলেন, সিরিয়া থেকে ফেরার পথে পথি মধ্যে আব্দুল্লাহ অসুস্থ হয়ে পরলেন এবৎ তিনি মদিনায় তার নানা(আব্দুল মোত্তালেব) বাড়িতে অবস্থান করলেন এবং সেখানেই আব্দুল্লাহ মৃত্যু বরণ করলেন। এই সংবাদ শুনে আব্দুল মোত্তালেব অত্যন্ত কষ্ট পেলেন। আব্দুল্লাহ মারা যাওয়ার ৬/৭ মাস পরে আমাদের মহানবী (সা) ৫৭০ খিৃষ্টাব্দে ৯ হতে ১২ ই রবিউল ওয়াল এর মধ্যে সোমবারে জন্মগ্রহন করেন। কারন আব্রাহার হস্তি বাহীনি ধংস হওয়ার ৫০/৫৫ দিনের মধ্যে মহানবী (সা) সোমবারেই জন্ম গ্রহণ করেছেন। মহানবী (সা) জন্ম গ্রহণে আমেনার কোন কষ্ট হয় নাই, তিনি সর্বপ্রথম তার মা আমেনার দুধ পান করেন, তারপরে তিনি আবু লাহাবের দাসি সওবিয়ার দুধ পান করেছেন।
.jpg)
0 Comments